ঈদে ও বেতন-ভাতা এবং সিকি বোনাস প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চিত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী

310
ফেসবুকে ফলো করুন

মো. জিয়াউর রহমান: ঈদুল ফিতরের আগমুহূর্তেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সিকি বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ইএফটির নানা জটিলতার কারণে বেতন আটকে গেছে দেশের হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর। কেউ তিন মাস, কেউ দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। রাষ্ট্রীয় চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অর্থ বিতরণ করা হয়। ঈদের আগে মাত্র বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ব্যাংকের কর্মদিবস রয়েছে। এদিন বেতন না পেলে হতাশায় ঈদ পার করতে হবে প্রায় ৫ লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারী পরিবারের।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর থেকে বেতন বাকি ছিল অন্তত ১৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চম লটে বেতন ছাড় করা হয়েছে ৪ হাজারের মতো শিক্ষক-কর্মচারীর। দুই মাসের (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) বেতন ব্যাংক হিসাবে যাওয়ার খুদে বার্তা (এসএমএস) পেয়েছেন তারা। এখনও ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী ডিসেম্বর-জানুয়ারির বেতন পাননি। এছাড়া ফেব্রুয়ারির বেতন ও সিকি ঈদ বোনাস পাননি পৌনে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। ফলে ঈদকে সামনে রেখে হতাশায় ভুগছেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিবার।

অথচ সরকারি চাকুরিজীবীদের সাথে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীগণ মার্চ মাসের আগাম বেতনসহ পূর্ণাঙ্গ বোনাস এমনকি বৈশাখী ভাতা পর্যন্ত পেয়ে গেছেন বলে ও জানা গেছে।

বেতন না আসা একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী জানান, অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী বেতনের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ইএফটি জটিলতার কারণে বেতন না পাওয়া একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর এনআইডি, এমপিও শিট, ব্যাংকের তথ্যের মিল রয়েছে, শুধু তারাই প্রথম ধাপে বেতন পেয়েছেন। অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারীই এনআইডি, এমপিও শিট, ব্যাংকের তথ্যের সামান্য ভুল, ডট, কমা, স্পেস, আক্ষরিক ভুলের কারণে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ধাপের শুধু ডিসেম্বর মাসের বেতন পেয়েছেন। এ ছাড়া অনেকের জন্ম তারিখ, জন্ম সাল, নামের বানান ইত্যাদি শিক্ষা সনদের সঙ্গে অমিল আছে। তারাও বেতন পাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেতন-ভাতা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান বলেন, তারা আপ্রাণ চেষ্টা করার পরও সবার সমস্যা সমাধান করতে পারেননি। মন্ত্রণালয়, আইবাস ও ইএমআইএস সেলের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলে তারা সংকট কাটাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।