কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার হতে পলাতক ৩ ফাঁসির আসামী গ্রেপ্তার

317
ফেসবুকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার হতে পলাতক তিনজন ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত আসামী নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ হতে র‌্যাব—১১ কর্তৃক গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার রাতে আড়াইহাজার উপজেলা থেকে ২ জন এবং মুন্সিগঞ্জ থেকে ১ জনকে আটক করা হয়।
র‌্যাব জানায়, গত  ৬ আগস্ট বিকেলে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে থাকা বন্দিরা বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহের সময় বন্দিরা কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কারারক্ষীরা তাদের নিভৃত করার চেষ্টা করলে বন্দিরা কারারক্ষীদের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে বন্দিরা চলমান দাঙ্গা—হাঙ্গামার মধ্যে দক্ষিণ অংশের পেরিমিটার ওয়াল ভেঙ্গে গর্ত করতে থাকলে তা প্রতিহত করা হয়। এ প্রতিহতকালীন সময়ে অন্য দিকে কারা অভ্যন্তরের বৈদ্যুতিক খুঁটি উপরে ফেলে মই বানিয়ে পশ্চিম দিকের দেওয়াল টপকে বেলা ১টা থেকে  ২টার মধ্যে ২০৩ জন বন্দি পালিয়ে যায় এবং বুলেট ইনজুরিতে ০৬ জন বন্দি মারা যায়।
মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামীরা দেশে বিশৃঙ্খলা এবং সামাজিক অপরাধ করতে পারে বিধায় তাদের গ্রেফতার করতে র‌্যাব—১১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব—১১ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল বুধবার রাতে  নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন পাঁচরুখি বাজার এলাকা হতে   মোসাদ্দেক @ সাদেক আলী (৩২), পিতা— সুরুজ মিয়া, সাং— নয়াগাঁও, থানা— আড়াইহাজার।  এই সময় একই উপজেলার একই গ্রামের  মো. জাকারিয়া (৩২), পিতা— ইউনুস আলীকে গ্রেফতার করে।
র‌্যাবের একই টিম মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন চর মুক্তারপুর এলাকা হতে   মো. জুলহাস দেওয়ান (৪৫), পিতা— হাজী কামাল দেওয়ান, সাং— চরমুক্তারপুর, থানা— সদর, জেলা— মুন্সিগঞ্জ কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোসাদ্দেক এবং জাকারিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০০৮ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন নয়াগাঁও এলাকায় জনৈক বারেক চৌধুরী নামক এক ব্যক্তির বাড়িতে হাঁস ও মুরগী চুরির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারেক চৌধুরীর বাড়িতে একটি সালিশ/বৈঠক হয়। সালিশে শামীম ভুইয়া (৪১), মোসাদ্দেক আলী (৩২) ও জাকারিয়া (৩২) চুরির সাথে জড়িত বলে একই গ্রামের ফজলুল মোল্লার ছেলে মো. শামীম স্বাক্ষ্য দেন। চুরির ঘটনায় স্বাক্ষী দেওয়ার কারণে ভিকটিম মো. শামীমকে ক্রোধের বশবর্তি হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ মার্চ ২০০৮ তারিখ রাতে আসামী শামীম ভুইয়া ও তার সহযোগী মোসাদ্দেক এবং জাকারিয়া মিলে ভিকটিম মো. শামীমকে নয়াগাঁও গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে ডেকে নিয়ে যায়। আসামী শামীম ভুইয়া ও জাকারিয়া ভিকটিমের হাত—পা চেপে ধরে এবং আসামী মোসাদ্দেক ভিকটিমকে ছুরি দিয়ে জবাই করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা উক্ত ঘটনায় বাদী হয়ে ৩০ মার্চ ২০০৮ তারিখ নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং— আড়াইহাজার থানার মামলা নং—২৪(৩)০৮, ধারা— ৩০২ দন্ডবিধি। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ১২ জুন ২০১৩ তারিখ তাদেরকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। গ্রেফতারকৃত আসামী মোসাদ্দেক আলী (৩২) কে ৬ এপ্রিল ২০০৮ তারিখ ও জাকারিয়া (৩২) কে ৩ এপ্রিল ২০০৮ তারিখ নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে এবং পরবর্তীতে দুইজনকেই ১৮ জুন ২০১৩ তারিখ কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত অপর আসামী মো. জুলহাস দেওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত একজন আসামী। ঘটনার দিন ভিকটিম সাহাদ অনেক অসুস্থ ছিল। ২০১৪ সালের ১৩ই অক্টোবর তাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাবা জুলহাস মুন্সিগঞ্জের পশ্চিম মুক্তারপুরের নিজ বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শিশু পুত্রের বাবা ও সাহাদ নিরুদ্দেশ ছিলেন। নিখোঁজ থাকার তিনদিন পর শিশু পুত্রের বাবা মো. জুলহাস দেওয়ান এর সন্ধান পাওয়া যায় । এ সময় ছেলের কথা জিজ্ঞেস করলে ছেলে হারিয়ে গেছে বলে নানা অজুহাতের আশ্রয় নেয় সাহাদের বাবা। এতে সন্দেহ হলে তাকে মুক্তারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাবা স্বীকার করে যে সে সাহাদ কে হত্যা করেছে। শিশু পুত্র সাহাদের বাবার স্বীকারোক্তি মতে গত ১৬ অক্টোবর ২০১৪ সালে সাহাদের লাশ নারায়ণগঞ্জ জেলার কয়লাঘাটা এলাকায় একটি মুরগি ফার্মের পাশে ডোবা হতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে স্ত্রী তানিয়া বেগম বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং—৪৬(১০)১৪, ধারা—৩০২/২০১ পেনাল কোড। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দাম্পত্য কলহের জের ধরে নিজের পাঁচ বছরের শিশু পুত্র সাহাদ (০৫) কে হত্যার দায়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ গত ইং ০৯ অক্টোবর ২০১৮ সালে বাবা মো. জুলহাস দেওয়ান (৩২) কে মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করেন। তাকে ১৬ অক্টোবর ২০১৪ তারিখ মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার এবং ২৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।