বিশেষ প্রতিনিধি : আড়াইহাজারের এসিল্যান্ড সামসুজ্জাহান কনককে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামসুজ্জাহান কনক প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘণ করে এমন সব ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন অপসারণ করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামসুজ্জাহান কনক সকলের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা সবাই নির্বাচনী আইন মেনে চলুন। নির্বাচনী আচরণবিধি পালন করবেন। আসুন সবাই মিলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ গড়ে তুলি। নির্বাচনী আচরণবিধি : নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানাগেছে, ৭ জানুয়ারি ২০২৪ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে চারদিকে এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের খবর এরই মধ্যে বেশ আলোচিত, যার অধিকাংশই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা সম্পর্কিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৯১-খ ধারার ক্ষমতাবলে অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যেসব আচরণবিধি মানতে হবে, তার উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আচরণবিধি হলোÑকোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষ হতে অন্য ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে উক্ত প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উক্ত এলাকায় বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান প্রদান বা প্রদানের অঙ্গীকার করতে পারবে না। নির্বাচনপূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উম্মোচন করা যাবে না। সরকারি ডাকবাংলো, রেস্ট হাউস, সার্কিট হাউস বা কোনো সরকারি কার্যালয়কে কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি আসনে তিনটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবেনা। কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান অধিকার পাবে। তবে প্রতিপক্ষের সভা, শোভাযাত্রা এবং অন্যান্য প্রচারাভিযানে বাধা প্রদান করতে পারবে না। সভা করতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করতে হবে এবং প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা পূর্বে তার স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। উপরন্তু, জনগণের চলাচলের বিঘœ সৃষ্টি করতে পারেÑএমন কোনো স্থানে জনসভার আয়োজন করা যাবে না। যথাযথ অনুমতি সাপেক্ষে আয়োজিত সভায় কেউ গোলযোগ সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে নিজেরা ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পুলিশের শরণাপন্ন হতে হবে। কোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সিটি করপোরেশন বা পৌর এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, গাছ বা অন্য দÐায়মান বস্তুতে, সকল সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাসমূহে কিংবা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে কোনো প্রকার পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবে না। প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিলের ক্ষতিসাধন বা এর ওপর নিজস্ব পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না। প্রচারণায় ব্যবহƒত পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল আচরণবিধিতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট মাপ ও নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি করতে হবে। কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা উহার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেন, কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন সহকারে মিছিল কিংবা মশাল মিছিল বের করতে পারবে না কিংবা কোনোরূপ শোডাউন করতে পারবে না। কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী বা তাদের পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণার জন্য চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো তোরণ, ক্যাম্প বা ৪০০ বর্গফুটের অধিক কোনো প্যান্ডেল বা কোনো আলোকসজ্জা করতে পারবে না। প্রতিটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ একটি এবং প্রতিটি পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের এলাকার প্রতি ওয়ার্ডে একের অধিক প্রচারণা ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে না। প্রচারণার জন্য প্রার্থীর ছবি বা প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য সংবলিত কোনো টিশার্ট বা ফতুয়া ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন উপলক্ষে কোনো নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন ও গোলযোগের মাধ্যমে তার শান্তি ভঙ্গ করা যাবে না। কমিশনের অনুমোদন ব্যতীত ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে কেউ কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তি প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর বিপক্ষে বা পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য বলপ্রয়োগ বা অর্থব্যয় করতে পারবে না। সর্বোপরি সকল ধরনের প্রচার-প্রচারণা ভোটের জন্য নির্ধারিত তারিখের তিন সপ্তাহ পূর্বে শুরু করতে পারবে না। অধিকন্তু, প্রচারের জন্য শব্দ বর্ধনকারী সকল যন্ত্রের ব্যবহার বেলা ২ ঘটিকা হতে রাত ৮ ঘটিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।



