আড়াইহাজারে মাদক কারবারি উজ্জ্বলের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

16
ফেসবুকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে উজ্জ্বল নামের এক ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাঁরা মাদক সেবন করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। উজ্জ্বলের কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে উজ্জ্বলকে এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশ বলছে, এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়ে আবার মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাসেদ জানান, মঙ্গলবার রাতে উজ্জ্বলকে তাঁর দুই সহযোগীসহ মাদক সেবনকালে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা পাওয়া যায়। পরে তাঁকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় সাজা দেওয়া হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার মাদক কারবারি উজ্জ্বলকে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে আবার মাদক কারবারে জড়ালে তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি।’

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার আয়নাল হকের ছেলে উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। এর আগে কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক কারবার চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
সম্প্রতি এক ব্যক্তিকে মাদক সরবরাহ করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে। ওই ব্যক্তি মাদক সরবরাহ করতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে বেদম মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারে এসে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে উজ্জ্বলের হাত থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ ছাড়া উজ্জ্বলের মাদক কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কথাও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। এসব ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে উজ্জ্বল এলাকায় মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের দাবি, মাদক কারবারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও কারাভোগের পরও একই কর্মকাণ্ডে ফিরে আসার ঘটনা এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু গ্রেপ্তার বা কারাদণ্ডের মধ্যেই যেন মাদকবিরোধী কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না থাকে। এলাকায় মাদকের সরবরাহ ও কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা সহজ হবে।