আড়াইহাজারে চুরির অপবাদ দিয়ে শ্রমিককে নির্যাতন, লজ্জায় আত্মহত্যা

234
ফেসবুকে ফলো করুন

স্টাফ রিপোর্টার: আড়াইহাজারে মোবাইল চুরির অপবাদ নিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া মো. শাহীন (২১) নামের এক শ্রমিক ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় সোমবার দুপুরে নিহতের মামা ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে ৭ জনের নামের একটি আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে শনিবার ভোরে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ব্রাক্ষন্দী ষাড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. শাহীন ওই গ্রামের মৃত মো. নাঈমের ছেলে। শাহিন আসামীদের মালিহা ফুড প্রোডাক্ট কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো ।
জানা গেছে, মো. শাহিন এর মা ছোট বেলায় মারা যাওয়ার পর থেকে একই গ্রাম তার মামা বাড়িতে থাকতো । সেখানে সে মো. মঞ্জুরুল এর মালিহা ফুড কোম্পানিতে চাকরি করতো। ঘটনার আগের দিন মঞ্জুরুলের একটি মোবাইল হারিয়ে গেলে শাহিনকে মোবাইলটি চুরির অপবাদ দেয় তারা এবং ওই দিন রাত ৯ টার সময় শাহিনের বাড়িতে গিয়ে একই গ্রামের মালিহা ফুড প্রোডাক্ট এর মালিক নুরু মিয়ার ছেলে, মঞ্জুর (৪২), পোয়া মিয়ার ছেলে মহিবুর (৪০), ইজুকারীর ছেলে মঞ্জুর হোসেন (৪১), মৃত হানিফ কারীর ছেলে নুরু মিয়া (৬০), নুরু মিয়ার ছেলে মোশারফ (৩৫), মৃত সাজুর ছেলে রিপন (৪০) ও ফয়জুদ্দিনের ছেলে আনার (৪০) সহ আরো কয়েকজন তাকে এলোপাথারী মারধরসহ কিল ঘুষি ও লাথি মারে। এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পরে শাহিন। পরবতীর্তে মোবাইল ফেরত না দিলে মেরে ঝুলিয়ে রাখবে বলে হুমকি প্রদান করে তারা চলে যায়।
ঘটনার পর শাহিনের মামা কাজ থেকে বাসায় ফিরে দেখে অজ্ঞান অবস্থায় শাহিন মাটিতে পড়ে আছে। এ সময় মাথায় পানি দিয়ে সুস্থ করে শাহিনের থেকে সব ঘটনা জানতে পারে তিনি।  এদিকে আত্মহত্যার আগে শাহিন একটি অডিও রেকর্ডে বলে যান আমি মোবাইল চুরি করিনি। আমাকে শুধু শুধু মারধর করা হয়েছে। আমার জন্য আমার মামা—মামি অপমান হয়েছে। আমি এই জীবন রাখব না।
কিন্তু শাহিন চুরির দায় অস্বীকার করে উক্ত ঘটনায় এলাকায় জানাজানি হলে লজ্জার ভয়ে ওই দিই ভোরে সবার অজান্তে নিজ ঘরের বাঁশের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগায়। সকাল ৬ টায় তার মামা কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে দেখে লাশ ঝুলছে। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের মামা জাকির হোসেন বলেন, আমার এতিম ভাগিনাকে তারা নির্যাতন করেছে। আমরা তাদের বিচার চাই।আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাছির উদ্দিন জানান, থানায় মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।