অটোরিকশা ও সিএনজির অতিরিক্ত ভাড়া নিলে  কঠোর ব্যবস্থা : এসিল্যান্ড নঈম উদ্দিন

449
ফেসবুকে ফলো করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় অটোরিকশা ও সিএনজি চালিত যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গোপালদি থেকে আড়াইহাজার রুটে যেখানে আগে ভাড়া ছিল ২০ টাকা, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ টাকায় পৌঁছেছে। এই অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় গোপালদি পৌরসভা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আড়াইহাজার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দিন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন গোপালদি বাজারের ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আফজাল হোসেন ভূঁইয়া, জেলা নাগরিক পার্টির সমন্বয়ক রনি খন্দকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সিএনজি ও অটোরিকশা মালিক-চালক প্রতিনিধি এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দিন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যাত্রীদের কাছ থেকে কোনও অবস্থাতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। যেকোনো অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। চালকদের সমস্যাও সমাধান করা হবে, তবে তার বিনিময়ে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে দেওয়া হবে না।”
চালকদের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে সরকারি চাল বিতরণ। সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের একটি তালিকা তৈরি করে তাদের মাঝে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে মাসিক চাল বিতরণ করা হবে।
ঈদে আর্থিক সহায়তা। প্রতি ঈদে চালকদের ইজারাদারের পক্ষ থেকে ৩০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
সড়ক উন্নয়ন। যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার করে দেওয়া হবে।
এসিল্যাণ্ড নঈম উদ্দিন জানান, “চালকদের যেসব সমস্যা রয়েছে, তা একে একে সমাধান করা হবে। কিন্তু এই সুযোগে ভাড়া বাড়িয়ে জনসাধারণের পকেট কাটতে দেওয়া হবে না।”
সভায় ইজারাদার আফজাল হোসেন জানান, “চালকদের স্বার্থরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। কিন্তু নিয়ম না মানলে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

রনি খন্দকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলাম। এটি সুন্দরভাবে সুরাহা হওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।
একজন সিএনজি চালক বলেন, “আমাদের আয় কমে গেছে, ইজারার টাকা বেশি, তাই ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। তবে সরকার যদি চাল, টাকা এবং রাস্তা মেরামতের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমরা আগের ভাড়াতেই ফিরতে রাজি।”
এ ধরনের উদ্যোগে যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একজন যাত্রী বলেন, “এই রুটে প্রতিদিন আমাদের যাতায়াত করতে হয়। হঠাৎ করে ২০ টাকা ভাড়া ৩০ টাকা হয়ে গেছে। প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে শুনে ভালো লাগছে। এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।”