আড়াইহাজারের ৪ কৃতিমুখের সাফল্য

463
ফেসবুকে ফলো করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : সর্বত্র আড়াইহাজারের জয় জয়কার। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিবছর এই উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল অর্জন করে সুনাম বয়ে আনছে। শিক্ষাক্ষেত্রে আড়াইহাজারের মেধাবী মুখগুলো যেনো একেকটি নক্ষত্র হয়ে সারাদেশে আড়াইহাজারের ইমেজকে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করে তুলছে। এ বছর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছে আড়াইহাজারের ৪ কৃতিমুখ। এরা হল, মারিয়া জাহান ইফতি, তানভীর আহমেদ, নূর ই ইলমা ও তৌফিক ওমর তামিম। মেধাবী এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে মানবিক ডাক্তার হতে আগ্রহী। তাদের লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষকে সেবা দেয়া।

মারিয়া জাহান ইফতি :
উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মারুয়াদী গ্রামের মেয়ে মারিয়া জাহান ইফতি কিশোরগঞ্জ মেডিকেল পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করেছে। ‘লক্ষ্য ছিল অটুট, আত্মবিশ্বাস ছিল প্রবল। পরীক্ষায় সফল হব। মেডিকেলেই সুযোগ পাব। পড়াশোনা করেও সেরা হওয়া যায়। আমি তার বড় উদাহরণ।’ এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন আড়াইহাজারের মেয়ে মারিয়া জাহান ইফতি। তিনি কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ইফতি মারুয়াদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষার (৫ম শ্রেণী) গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছেন। এ এম বদরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছেন ২০২১ সালে। তিনি ঢাকার শহীদ বীর উত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২০২৩ সালে। পরে তিনি কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে ২৩-২৪ এর পরীক্ষায় সফল হয়েছেন । তার মেরিট স্কোর ছিল ৪১৭৮। তার বাবার নাম মোহাম্মদ বাবুল হোসেন ও মায়ের নাম জুবেদা পারভীন। তার পিতার বাড়ি উপজেলার মারুয়াদীর দক্ষিণপাড়া গ্রামে।
মারিয়া জাহান ইফতি জানান, শৈশব থেকেই মনের সুপ্ত বাসনা ছিল ডাক্তার হওয়ার। কারণ এ পেশায় মানুষের সরাসরি সেবা করা যায়। সেই সুপ্ত বাসনা পূরণ হওয়ার লক্ষ্যে আমার চেষ্টা, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা সবকিছুর সম্মিলনেই তার সাফল্য এসেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মেয়ে হয়ে এমন সাফল্যে আমি গর্ববোধ করি। অনেক বড় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন তার। তিনি যেতে চান অনেক দূর এজন্য সবার দোয়া চান।

তানভীর আহম্মেদ :
আড়াইহাজারের কৃতিসন্তান তানভীর আহম্মেদ চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পরীক্ষায় অত্যন্ত সফলতার সাথে পাশ করেছেন। পরীক্ষায় তার মেরিট স্কোর ছিল ৫১৩৬। মেধা তালিকার শীর্ষে তিনি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেয়েছেন।
তানভীর আহম্মেদ ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি ৮৮ নং মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণীতে গোল্ডেন জিপিএ ৫ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছেন। চৈতনকান্দা গোলাম মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে এ গ্রেড এবং এসএসসিতে এ প্লাস পেয়ে পাশ করেন ২০২১ সালে। এরপর নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। পরে মেডিকেলের জন্য লেখাপড়া শুরু করেন। তার বাবার নাম মোঃ আমান উল্লাহ ও মায়ের নাম কামরুন নাহার। তিনি বিশনন্দী ইউনিয়নের মানিকপুর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
তানভীর আহম্মেদ জানান, এই সাফল্যের জন্য তার বাবা মায়ের কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। তিনি ‘প্রথমে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন এরপর পাশ করার জন্য নিজের চেষ্টার কোনো ত্রুটি করিনি এমনটাই ব্যক্ত করেন।
তিনি ভবিষ্যতে একজন ভালো ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চান এবং বলেন ‘একজন ডাক্তার হিসেবে মানুষের সেবা করতে চাই।’

নূর-ই-ইলমা :
২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন আড়াইহাজারের মেধাবী মুখ নূর-ই-ইলমা। তিনি উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের চৈতনকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মোঃ মোস্তফা ও মায়ের নাম শিরিন ফারজানা। নুর-ই-ইলমা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয় পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষায় এ এবং এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে পাশ করেছেন ২০২১ সালে। ঢাকার মাহাবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছেন ২০২৩ সালে। পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ থেকে মেরিট স্কোর ৪৭৯১ পেয়ে মেধা তালিকার শীর্ষে পাশ করেছেন।
নূর-ই-ইলমা জানান, মেডিকেল কলেজ পরীক্ষায় পাশ করে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেছি। একজন কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে বিরাট আনন্দ হচ্ছে। তবে আমার এই আনন্দের পিছনে আমার বাবা-মায়ের পরিশ্রম ও আমার কঠোর অধ্যবসায় নেপথ্য কারণ ছিল। বাবা-মায়ের শ্রমকে সার্থক করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আজকের এই সফলতা আনতে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটা মুহূর্তে সময়কে কাজে লাগানো জরুরী ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগে। সবাই দোয়া করবেন সুযোগ পেলে ডাক্তার হয়ে দেশ ও সমাজের মানুষকে অনেক কিছু দিতে পারব।

তৌফিক ওমর তামিম :
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজে সাফল্য পেয়েছেন এমবিবিএস ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছে আড়াইহাজারের তৌফিক ওমর তামিম। তিনি আড়াইহাজার উপজেলার আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মোঃ আব্দুস ছালাম ও মায়ের নাম তাছলিমা আক্তার। ছোট থেকেই তৌফিক ওমর তামিম ছিলেন মেধাবী ছাত্র। তিনি ৬২ নং আড়াইহাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২০১৪ সালে। ইউনাইটেড স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে জিপিএ ৫ পেয়ে পাশ করেছেন ২০২০ সালে। পরে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষা পাস করেছেন ২০২২ সালে। এরপর ২০২৩-২৪ এ বরিশালের শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে মেরিট স্কোর ২০৬৬ পেয়ে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।
তৌফিক ওমর তামিম জানান, স্বপ্ন নিয়ে গত কয়েক মাস বাবা মায়ের উৎসাহে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। আমার শিক্ষকরাও অনেক কষ্ট করেছেন আমার জন্য। তবে কষ্ট কাজে লেগেছে। নিজেকে সফলতার পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। এটা নিয়ে আমি গর্ববোধ করি।
এমন চিকিৎসক হতে চাই যেন রোগী চেম্বারে আসার পরে মনে করবে তার অর্ধেক রোগ ভালো হয়ে গেছে। তিনি পড়াশোনা শেষ করে এলাকার মানুষের সেবার জন্য মনোনিবেশ করার কথা জানান।