ভোট গ্রহণে অনিয়ম হলে সংশ্লিস্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

232
ফেসবুকে ফলো করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : এবারের নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। কোন অনিয়ম, কারচুপি করলে ছাড় নেই। কোন কেন্দ্রে জালভোট পড়লে সেই কেন্দ্র বাতিল করা হবে। এভাবেই কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসন তথা আড়াইহাজারের সহকারি রিটার্নিং অফিসার মো: ইশতিয়াক আহমেদ। শুক্রবার আড়াইহাজার উপজেলা হলরুমে পুলিশ, বিজিজি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত। সভায় প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের তাদের করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয় অবগত করা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে অতীতের মত এবারও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ হলে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে স্বাধীনভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে, তার জন্য যা যা করার দরকার সব করা হবে।
সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সারাদেশের ভোট কেন্দ্রগুলোতে নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করেছে পুলিশ। ৭ জানুয়ারি নির্বাচন ও তার আগে পরে মানুষের কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার এবার কোনো কারণ নেই। নাশকতাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করতে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচন বানচাল করতে মহল বিশেষ নাশকতার আশ্রয় নিয়ে পারে শঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে সর্বত্র।
নির্বাচন অনুষ্ঠান ঘিরে যে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার উপর কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। ভোটার, ভোট কেন্দ্র, সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রচারনার দিনগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠে রয়েছে পুলিশ।
অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তায় রয়েছে পুলিশ। যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা রুখে দিতে বাংলাদেশ পুলিশ প্রস্তুত। নারায়ণগঞ্জসহ বাংলাদেশের সব অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ অধিক-ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর প্রতি বিশেষ নজরদারি করছে পুলিশ। প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তথ্য আপডেট করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রার্থীর দেয়া তালিকা ছাড়াও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা করা হয়েছে। ৭ জানুয়ারি যাতে সব শ্রেণি পেশার মানুষ অবাধে এবং নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পরিবেশ করা হয়েছে। একারণে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট স্তরে স্তরে পেট্রলিং করছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী নিরাপত্তায় পুলিশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
জানাগেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নারায়ণগঞ্জে ৩ জানুয়ারি থেকে সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নেমেছে। স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় ২৯ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশের নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিজিবি টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।
ইসি জানিয়েছে, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী ৩ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের জন্য আদেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। নির্বাচনকালীন সেনাবাহিনী মোতায়েনে গত ১৭ ডিসেম্বর নীতিগত অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
১. নির্বাচনী এলাকায় সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। ২. আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা দেবে। এছাড়া ভোটকেন্দ্র ও ভোট গণনার ক্ষেত্রে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে। ৩. নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিটি আসনে কমপক্ষে দুটি টহল দল মোতায়েন ও প্রতিটি ব্যাটালিয়নে দুটি টহল স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ থাকবে। ৪. র‌্যাব সদর দপ্তরে ১৫টি টহল দল সেন্ট্রাল রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত থাকবে। দেশব্যাপী ২৫টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। এছাড়া অন্যান্য স্থানে মোতায়েনের জন্য ৫০টি টহল দল প্রস্তুতসহ দেশব্যাপী সর্বমোট ৭০০টির অধিক টহল দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। ৫. গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং নিজস্ব সুইপিং ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ও ডগ স্কোয়াড নিয়োগ করা হবে। ৬. অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ/গুরুত্বপূর্ণ আসন বিবেচনায় মোতায়েনের জন্য বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন থেকে টহল দল গুরুত্বপূর্ণ/ঝুঁকিপূর্ণ আসন বিবেচনায় মোতায়েনের জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। ৭. বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের স্পেশাল ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। ৮. র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ৭টি জোনে বিভক্ত হয়ে মোতায়েনের জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। ৯. র‌্যাব ডগ স্কোয়াডের ১০টি দল সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ১০. নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্রে ঝুঁকিপূর্ণ আসন সমূহে অধিক টহল নিয়োজিত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।