বিশেষ প্রতিনিধি :নিয়ম না মেনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিএনজি অটোরিকশা। বড় যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমনকি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও দক্ষতা কোনটিই নেই চালকের। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই।
উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ সূত্র মতে, আড়াইহাজারে কতটি সিএনজি অটো রিক্সা সড়ক মহাসড়কগুলোতে চলাচল করে তার প্রকৃত তথ্য তাদের কাছে নেই। ধারনা করা হচ্ছে আড়াইহাজারের বিভিন্ন সড়কগুলোতে অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। যাদের অধিকাংশের চালকের লাইসেন্স নেই, নিবন্ধনও নেই। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশকে ম্যানেজ সিএনজি অটো রিক্সাগুলো চলাচল করছে।
অটো রিক্সা চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন মালিককে ভাড়া দিতে হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। ভূলতায় একটি গ্যাস পাম্প রয়েছে। লাইনে সারিবদ্ধভাবে থেকে অটোরিকশায় গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট এবং জমার টাকার টেনশনে সব সময় চালকরা সড়কে তাড়াহুড়া করেন। এতে প্রায়শ’ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, মহাসড়কে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ব্যস্ততম ঢাকা সিলেট মহাসড়কের মাধবদী থেকে আড়াইহাজার উপজেলার বাঘবাড়ি, ছনপাড়া, রশিদের বাড়ি, পুরিন্দা, পাঁচরুখী এবং আঞ্চলিক মহাসড়ক ভূলতা, কালিবাড়ি, আড়াইহাজার, রামচন্দ্রী, মানিকপুর ফেরিঘাট, গোপালদী, জাঙ্গালিয়া, খাগকান্দা, উচিতপুরাসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে রাতদিন বিরামহীন অটোরিকশা চলছে। অধিকাংশ অটোরিকশার চালকই অদক্ষ। অনেকেরই কোনো অক্ষর জ্ঞান নেই। এতে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে।
থানা পুলিশের তথ্যমতে গত ৭ মাসে সিএনজি চালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। এতে নিহত হয়েছেন শিশুসহ কমপক্ষে ১০ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক।
আড়াইহাজার পৌরসভার বাসিন্দা আক্তার হোসেন জানান, অদক্ষ চালকরা গাড়ি চালানোর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সড়ক-হাসড়ক। ফলে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা।
আরেক বাসিন্দা কাউসার হোসেন জানান, লাইসেন্সবিহীন চালকদের কারণে সড়ক-মহাসড়ক যেন মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে। ঝুঁকি জেনেও প্রয়োজনের তাগিদে উঠতে হচ্ছে সিএনজি চালিত এসব অটোরিকশায়। সড়কে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অদক্ষ চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারির অভাব রয়েছে। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত অভিযানের দাবি জানান তিনি।
এদিকে বেশ কয়েকজন অটোরিকশা চালকের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স করাতে বিআরটিএ অফিসে গেলে নানা জটিলতায় পড়তে হয়। এছাড়া লাইসেন্স থাকলেও সড়কে থাকা পুলিশি ঝামেলার শিকার হন তারা। তাই লাইসেন্স ছাড়াই মাসিক চুক্তির মাধ্যমে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। মাসিক চুক্তি এবং স্ট্যান্ডে থাকা দালালের মাধ্যমে এককালীন অনুমতি নেন তারা। এছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে সড়ক মহাসড়কে চাঁদা দিয়ে চলতে হচ্ছে তাদের।
উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত যানবাহন চলার কারণে সিএনজির সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটছে। কার আগে কে যাবে এনিয়ে চালকদের মধ্যে সড়কে প্রতিযোগিতা চলে। অহরহ ঘটে দুর্ঘটনা। সভায় দুর্ঘটনা রোধে চালকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষ চালকদের হাতে গাড়ি তুলে দেয়ার জন্য মালিকের আহ্বান জানানো হয়।
এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানিয়েছেন, পুলিশ সিএনজি অটো রিক্সা মালিক-চালকদের কাছ থেকে কোন আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেনা। অনেকে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে সিনএনজি অটো রিক্সার জড়িতদের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছে। পুলিশ এ ব্যপারে সর্তক রয়েছে। ওসি আরও জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা একটু সতর্ক হয়ে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। বেপরোয়া গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।


