মাদকের কুফল সম্পর্কে জানাতে সুমনের সামাজিক আন্দোলন

175
ফেসবুকে ফলো করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : সুমন কত বদলে গেছে। আজ সে পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ে। তরুণদের সাথে মেলামেশা করে। তরুণদেরকে মাদকের কুফল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। মাদক কিভাবে একটি পরিবার ধ্বংস করে দেয়- সে সব মোটিভেশনাল বিষয় আলোচনা চলে। সুমন পুরোপুরি বদলে গেছে। এক সময় সবাইকে এড়িয়ে চলতো যে সুমন। আজকে সুমন রাস্তায় বের হলেই মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করে। সুমন আজ কত হাসিখুশি মানুষ। সবাই সুমনের প্রশংসা করে। সুমন একাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করে যাচ্ছে। তার সাথে কেউ আসুক বা না আসুক তাতে সুমনের কোন খেদ নেই। প্রতিটি দিন রুটিন করে নিয়েছে সে। তরুণ ও মাঝবয়েসী লোকদেরকে পেলেই মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত করেন। সবাইকে জানান যে, মাদক প্রথমে একটি পরিবার। পরে একটি সমাজ এবং পরবর্তীতে একটি জাতি ধ্বংস করে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কাজে মাঠে ময়দানে ছুটে বেড়ানো কে এই সুমন ? সুমনের পুরো নাম ইয়ামিন রহমান সুমন। সে বিশনন্দি গ্রামের ছেলে। তার পিতা মৃত : তাজুদ্দিন রহমান মাতা : জমিলা বেগম। স্ত্রীর নাম হাবিবা আক্তার। তার ১ মেয়ে ২ ছেলে।  আজকে সেই সুমন নেশার পথ থেকে ফিরে এসে ব্যবসা ধরেছেন। ভালভাবেই সংসার চালাচ্ছেন। দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে সুমন একটু ফুরসত পেলেই মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন। যুবসমাজকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, মাদক কতটা খারাপ। নেশারজগৎ কতটা ভয়াবহ। নেশা মানুষকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। নিজের পাঁচবছরের নেশা করার কথা বলে মানুষকে সজাগ করতে চায়।
সুমন অকপটে বলে যায়, তার নেশা করার কাহিনী। ২০১২ সালের কথা। সঙ্গদোষে সুমন ইয়াবা ও ফেন্সিডিল ধরে। বন্ধুদের তালে পড়ে পরিবারের কথাও মনে থাকতোনা। রাতদিন শুধু নেশার পেছনে ছুটে চলা। সংসারের বাজার করার টাকা দিয়েও সে নেশা করেছে। সংসারে ঝগড়া ফ্যাসাদ লেগেই থাকতো। সেদিকে কোন খেয়াল ছিলনা। সারাক্ষণ শুধু নেশা চাই। নেশা চাই। নেশাই জীবন। নেশাই যেনো শান্তির ঠিকানা ছিল। কিছুতেই বুঝতে চাইতামনা যে, নেশা সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। পাঁচটা বছর একটানা নেশা করেছি। পরিবারের লাখ লাখ টাকা উড়িয়ে দিয়েছি। যা আর কোনদিন ফিরে পাবোনা। তাই যুবক ভাইদেরকে বলি তোমরা কেউ নেশা কইরোনা। মাদক বিক্রেতারা তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে ধ্বংসের পথে নিয়ে দাঁড় করাবে।
২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবছর সুমন নেশা করতো বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে। টাকার দমটা ফুরিয়ে আসলে নেশার জগতের বন্ধুরা সটকে পড়ে। আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের চাপে ২০১৬ সালে আমি নেশার জগৎ থেকে মুখ ফেরাতে বাধ্য হই। আমাকে ভর্তি করানো হয় একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। মাত্র তিন মাসেই আমি নেশার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই। আসলে ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। সেই কেন্দ্রটির নাম ‘উৎসব মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’। আজকে আমি মাদক ছেড়ে আল্লাহপাকের অশেষ রহমতে সুস্থ জীবন যাপন করছি। আজকে নামাজ রোজা করতে পারছি। দুনিয়াটাকে কত ভাল লাগে। এখন বুঝি আগে কোন নরকে ছিলাম। নেশা মানুষকে নরকে নিয়ে যায়। জনসেবা মানুষকে নিয়ে যায় সুপথে। আমি সকলের দোয়ায় মানুষের জন্য কাজ করতে পারছি। এটাই বড় পাওয়া। আজ মানুষ আমাকে দেখলে ডাকে। ভাল ভাল কথা বলে। অনেকে পরামর্শ ও বুদ্ধি দেন। অনেক মুরুব্বী দোয়া করেন।